দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে শিঙাড়া বিতরণ, বেধড়ক পিটুনি

23

ঢাকার ধানমন্ডি-৩২ নম্বর এলাকায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া, মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও শিঙাড়া বিতরণকে কেন্দ্র করে তিন ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে প্রবেশ সড়কের মুখে এসব ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে মারধরের শিকার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে এক রিকশাচালক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ)-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার কাছে যান এবং মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করেন।

ভিডিওটি যুবলীগের এক নেতার কাছে পাঠানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ওই রিকশাচালককে মারধর করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।

রিকশাচালককে মারধরের সময় সেখানে থাকা আরেক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ওই ব্যক্তি দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

এর কিছুক্ষণ পর বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিঙাড়া বিতরণ করছেন—এমন অভিযোগ তুলে আরেক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। তার হাতে থাকা একটি ব্যাগে শিঙাড়া পাওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। মারধরের একপর্যায়ে তিনিও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা যাতে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য তারা সেখানে অবস্থান করছেন। কাউকে সন্দেহজনকভাবে পাওয়া গেলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে মব সৃষ্টি করে কাউকে মারধর করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আয়াস বলেন, তারা মব সৃষ্টি করছেন না; আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের কাউকে পেলে পুলিশের কাছে তুলে দিচ্ছেন। পরে সাংবাদিকদের আরও প্রশ্নের মুখে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এদিকে, শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে ফুল দিতে আসা অর্ণব দাস নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তিনি ফুল দিতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অর্ণব দাসের বাড়ি টাঙ্গাইলে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেন জানান, ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। ঘটনাগুলোর বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।