গাজীপুর :
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কামরুন আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী মঞ্জুরুল ইসলাম (৪০) ও বড় মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম (১৬) গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের মঠবাড়ি (তেতুইবাড়ি) এলাকার নগরভেলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কামরুন আক্তার ওই গ্রামের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী এবং প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মেয়ে। আহত মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার মেয়ে মিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাড়ির নির্মাণকাজের জন্য ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলে আনেন ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম।
এরপর শুক্রবার গভীর রাতে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র দল ভেন্টিলেটর ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের চেষ্টা করে।
এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে কামরুন আক্তার চিৎকার শুরু করেন। পরে ডাকাত দলের সদস্যদের সঙ্গে মঞ্জুরুল ইসলাম, তার স্ত্রী কামরুন ও মেয়ে মিমের ধস্তাধস্তি হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরিবারের অপর দুই সন্তান এ ঘটনায় অক্ষত রয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু
গুরুতর আহত কামরুন আক্তারকে স্থানীয় ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ডিভাইন মার্সি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহাদাৎ হোসাইন তুহিন জানান, রাত সোয়া ৪টার দিকে স্বজন ও স্থানীয়রা কামরুন আক্তারকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
তার মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার মেয়ে মিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তদন্ত
কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পরিবারের ঘর থেকে কিছু নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘরের সোফার ওপর ২৪ হাজার টাকা, আলমারির ভেতরে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা এবং ৫-৬ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এটি ডাকাতির ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনা—এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
পরিবারের সদস্যরা নিহত ও আহতদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।