বিএনপি সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন শিক্ষকদের অবসর ভাতার জন্য অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন দীর্ঘদিন আটকে থাকা ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া অবসর সুবিধার অর্থ বিতরণ শুরু হয়। সরকারের এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে iBAS+ সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার যতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। ভবিষ্যতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হয়রানি ছাড়াই যথাসময়ে অনলাইনে তাদের প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলেন। অথচ নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পেতে যদি তাদের ঘুষ দিতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়—জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতার প্রকাশ।
তহবিল সংকটের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেন, শিক্ষকদের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে ব্যাংক-বিমাসহ বিভিন্ন খাতের মতো শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলও অনিয়মের শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, জাল ইনডেক্স তৈরি এবং দুর্বল ব্যাংকে অর্থ সরিয়ে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েন। বর্তমান সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় এই অর্থের সংকুলান করেছে।
খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথা স্মরণ
বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকদের কল্যাণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।
শিক্ষা বিস্তারে, বিশেষ করে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর ক্ষেত্রেও খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমাজের ‘আলোকবর্তিকা’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত নিয়মে পেশা থেকে অবসর নিলেও শিক্ষক হিসেবে তাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তারা ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।