খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ, শৃঙ্খলা, নিয়মিত উপস্থিতি এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস. কে. আজিজুল বারী হেলাল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, তাদের নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলিতেও সমৃদ্ধ হতে হবে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ের সমন্বয়েই একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস. এম. মনিরুল হাসান বাপ্পি। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ, মেধাবী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খাইরুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এ. আনোরুল কুদ্দুস, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান এবং সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক। বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় পর্বে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। উপস্থিত অতিথিরা এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাণবন্ত এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।