দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে মোংলায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ১২ হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ

22

মোংলা :

উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোংলায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণমেঠ জগন্নাথ মন্দির মাঠে ব্র্যাকের ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রাম (সিইআইপি) এর আওতাধীন ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের অধীনে বসতবাড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ চারা বিতরণ করা হয়। রয়্যাল ড্যানিশ দূতাবাসের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার এবং পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-এর কেন্দ্রীয় নেতা মো. নূর আলম শেখ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের কর্মকর্তা তৃপ্তি সরদার, রাশেদ খান, মাসুম মিয়া এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, মোংলা দেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি চারার পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত পরিবেশে সব ধরনের গাছ টিকে থাকতে পারে না। তবে সফেদা, কদবেল ও মেহগনি এ অঞ্চলের জন্য উপযোগী। সঠিক পদ্ধতিতে রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এসব গাছ দ্রুত বেড়ে উঠবে এবং পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে বলেও তিনি জানান।

ব্র্যাক সূত্রে জানা গেছে, ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের আওতায় মোংলা উপজেলার চাঁদপাই, চিলা, মিঠাখালী ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন উপকারভোগীর মধ্যে সফেদা, কদবেল ও মেহগনি প্রজাতির প্রায় ১২ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচি উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।