দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

প্রবাসীদের ভোট, এনআইডি সেবা সহজ করতে ইসির নতুন উদ্যোগ

25

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রবাসীদের ভোটদান প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করা, এনআইডি নিবন্ধনের দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন ও ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং-সাপোর্ট ডেক্স ইন্টিগ্রেশন’ (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা তথ্যপ্রযুক্তি-সমর্থিত ডাকযোগে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ২৩৩ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো ব্যালটের মধ্যে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৩টি ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।

প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও আবেদনের পর দেশে একাধিক ধাপে তদন্ত করা হতো। নতুন ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে আপলোড করা হবে। এরপর ঢাকায় প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে সব তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে অতিরিক্ত একটি তদন্ত ধাপ বাদ দিয়ে সরাসরি এনআইডি অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে প্রবাসীদের এনআইডি পাওয়ার সময় ও জটিলতা দুটোই কমবে বলে মনে করছে কমিশন।

এ ছাড়া বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর, বাহরাইন ও সুইডেনে প্রবাসীদের জন্য ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে চলতি মাসেই তিন নির্বাচন কমিশনার দেশগুলো সফর করবেন বলে বৈঠকে জানানো হয়।

নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়াও সহজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এখন থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকেই নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ নাগরিকদের এনআইডি সংশোধনে ভোগান্তি ও সময় দুটোই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনও অনলাইনে করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে নাগরিকরা অনলাইনের মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সরাসরি কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন কমবে।

ভবিষ্যতে ছয় বছর বয়সী শিশুদেরও জাতীয় পরিচয়পত্রের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিশুদের নিবন্ধনের মাধ্যমে এনআইডি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন নিয়েও বেশ কিছু সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধন অনুযায়ী ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ, এনআইডি সেবা গ্রহণ এবং সাধারণ নাগরিকদের ভোটারসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।