দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বায়নাপত্রের শর্ত ভেঙে জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

23
সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর মৌজায় বায়নাপত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে জমি দখল ও অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জমির পূর্ণ মূল্য পরিশোধ কিংবা দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না করেই মাত্র ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা অনিবন্ধিত বায়নাপত্রের সুযোগ নিয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক ও সুলতান বড় বাজারের ব্যবসায়ী মো. জবেদ আলী। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর মৌজায় তাঁর মালিকানাধীন ১৪৭ শতক জমি রয়েছে, যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্লট আকারে বিক্রি করে আসছেন।

তিনি জানান, পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার আব্দুল শাহীন ৯ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্লট কেনার জন্য ৩ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অনিবন্ধিত বায়নাপত্র করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে সাফ-কবালা দলিল রেজিস্ট্রি করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলেও তিনি বাকি অর্থ পরিশোধ করেননি। অভিযোগ রয়েছে, দলিল রেজিস্ট্রি ছাড়াই তিনি ওই জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন।

একই ধরনের আরেকটি অভিযোগে জবেদ আলী জানান, পুরাতন সাতক্ষীরার ভাঙাড়িপাড়া এলাকার আব্দুল হক ১০ লাখ টাকা মূল্যের তিন শতক জমির বিপরীতে ৬ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে গত বছরের ১২ মে একটি বায়নাপত্র করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ১১ নভেম্বরের মধ্যে বাকি ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং বাকি টাকা পরিশোধ না করেই তিনি সংশ্লিষ্ট জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী জবেদ আলী বলেন, ব্যবসায়িক কাজে তিনি কিছুদিন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। সেই সুযোগে কোনো বৈধ নকশা বা অনুমোদন ছাড়াই তাঁর জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। তিনি ফিরে এসে প্রতিবাদ জানালে উল্টো তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এ কারণে তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তিনি আরও বলেন, ১০০ টাকার সাধারণ নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত অনিবন্ধিত বায়নাপত্র কোনোভাবেই জমির মালিকানা হস্তান্তর বা স্থাপনা নির্মাণের আইনগত অধিকার প্রদান করে না। বায়নাপত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে এ ধরনের দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি।

ভূমিদস্যুতা প্রতিরোধ, নিজের মালিকানাধীন জমি রক্ষা এবং আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া