অবশেষে বেনাপোলে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপে বাড়ি নির্মাণে বাধা কাটল
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলের ভবারবেড় গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বন্ধ হয়ে থাকা ব্যবসায়ী মাসুম হোসেনের বাড়ি নির্মাণকাজে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জটিলতার অবসান হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুমের সরেজমিন পরিদর্শনের পর তিনি নির্মাণকাজে আপাতত কোনো বাধা নেই বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ভবারবেড় মৌজার আরএস দাগ নং ৬১২-এর ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন মাসুম হোসেন। প্রায় তিন মাস আগে ওই জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর ফলে নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবেশী বিরোধের জেরে মাসুম হোসেনকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শার্শা উপজেলা ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ অনুযায়ী মাসুম হোসেনের ক্রয়কৃত জমির সঙ্গে সরকারি খাস জমির কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি খাস জমির অংশ দীর্ঘদিন ধরে অন্য ব্যক্তিদের দখলে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জমিতে মাসুম হোসেনের কোনো অবৈধ দখলের প্রমাণ মেলেনি।
মাসুম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তিনি বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছেন। এরপরও মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে তাঁকে নানা ধরনের ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। এমনকি তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদাও দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেছেন এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চেয়েছেন।
অন্যদিকে সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, মাসুম হোসেন সরকারি জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্যই তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম বলেন, ভবারবেড় মৌজার একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাসুম হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে অভিযোগকারী সাইফুল ইসলামের চলাচলের গলিটি আপাতত খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১৯৬২ সালের মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী নির্মাণাধীন বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি রাস্তার অস্তিত্ব রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সেই রাস্তা চিহ্নিত করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রশাসনের এ হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।