দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধায় বছরে ঘাটতি ১৫৬ কোটি টাকা

26

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা প্রদান কার্যক্রমে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছে সরকার। বর্তমানে এ খাতে প্রতিবছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি থাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক আয় প্রায় ৬৮৪ কোটি টাকা হলেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা দিতে বছরে প্রয়োজন হয় প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রতিবছর ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদা এবং এর বিনিয়োগজনিত মুনাফা থেকে ট্রাস্ট পরিচালিত হয়। তবে মূল বেতনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির কারণে দায়ের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সুবিধা প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এককালীন প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়াতে সরকার কাজ করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইতোমধ্যে ৯ হাজার ২৮৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে ৫৫৩ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার বেশি কল্যাণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জমাকৃত সব আবেদন নিষ্পত্তি করে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের জুন ও জুলাই মাসের আবেদনগুলোর অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অনিষ্পন্ন ৪৪ হাজার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।