দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পুষ্টি উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও পরিবেশবান্ধব কৃষিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কেশবপুরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত

60

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:পুষ্টি উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরী এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে কৃষকদের আরও দক্ষ ও আত্মনির্ভর করে গড়ে তুলতে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে

সোমবার (০৮ জুন ২০২৬) কেশবপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কেশবপুর, যশোরের বাস্তবায়নে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১০০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মেশকাতুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোঃ মোশাররফ হোসেন, কেশবপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ রোকসানা খাতুন, উপজেলা মৎস্য অফিসার সুদীপ বিশ্বাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফিরোজ হোসেন খান, উপজেলা সমবায় অফিসার নাসিমা খাতুন, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু, নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনার রশীদ বুলবুল, এনটিভির প্রতিনিধি ইনামুল হাসান, কৃষক প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম (গৌরিঘোনা) এবং কৃষাণী প্রতিনিধি রেহেনা খাতুন (সরসাবাদ)।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ ইয়াসির আরাফাত।

 

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক খাতে পরিণত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কৃষকদের সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগী হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পুষ্টিবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, পার্টনার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হচ্ছেন।তিনি আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চার মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব। কৃষকদের এসব প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করছে।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মেশকাতুল ইসলাম বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্যোক্তামুখী করে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকরা যত বেশি প্রশিক্ষিত হবেন, তত বেশি উৎপাদনশীল ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবেন।
উপপরিচালক মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, পার্টনার প্রকল্প কৃষকদের পুষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করছে। এর মাধ্যমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।
অন্যান্য অতিথিরাও কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুব উদ্যোক্তা তৈরিতে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কৃষক ও কৃষাণীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শেষে সফল কৃষক ও কৃষাণীদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় এবং কৃষি উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।