দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় করবে কৃষক

20

এবার আর শুধু ফসলের ফলন নয়, রোদের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বেচেও আয় করবেন দেশের কৃষক। লোডশেডিং ও বাড়তি ডিজেল খরচের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে সেচব্যবস্থাকে পুরোপুরি সৌরশক্তিতে রূপান্তর করতে সাত হাজার কোটি টাকার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এ পরিকল্পনায় জমিতে পানি দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করে কৃষিতে দ্বিমুখী লাভের সূচনা হতে যাচ্ছে।

‘নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যমান সেচযন্ত্রসমূহকে সৌরশক্তি চালিত সেচযন্ত্রে রূপান্তরকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৯৯৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত চার বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পটি দেশের আট বিভাগের ৫৬ জেলার ৩৪৯টি উপজেলায় বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ২ কিউসেক ক্ষমতার ২৫০টি ডিজেলচালিত এলএলপি, ১ কিউসেক ক্ষমতার ৫৫০টি এলএলপি এবং ০.৫ কিউসেক ক্ষমতার ৫০ হাজার শ্যালো টিউবওয়েল সৌরশক্তিতে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি ১০০টি বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপও সৌরশক্তিতে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সেচযন্ত্রের মাধ্যমে বছরে দুই লাখ ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে অতিরিক্ত চার লাখ ৫৯ হাজার ৩৭৫ টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের আশা করছে বিএডিসি।

দেশের সেচব্যবস্থায় ডিজেলের ব্যবহার অনেক বেশি।প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার ৮০৭টি ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র রয়েছে। গ্রিড বিদ্যুতের সুবিধা না থাকায় দেশের প্রায় ৭১ শতাংশ সেচপাম্প ডিজেলে চলে। ফলে প্রতিবছর সেচ মৌসুমে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানি করতে হয়। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের ৫০ হাজার ৯০০টি ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র সৌরশক্তিতে রূপান্তর করা হলে বছরে ২৬,৭১১.২৬ টন ডিজেল সাশ্রয় হবে। এতে বছরে ৩৬১ কোটি ৪১ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে হিসাব করেছে বিএডিসি।

প্রকল্পটির আরেকটি বড় দিক হলো নেট মিটারিং ব্যবস্থা। ২৫ হাজার সৌরচালিত সেচযন্ত্রে এ ব্যবস্থা বসানো হবে। সেচের প্রয়োজন না থাকলে বা সেচ মৌসুমের বাইরে সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এভাবে প্রতিবছর প্রায় ১৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ সৌর পাম্প শুধু জমিতে পানি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে না, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও অর্থ আয়ের সুযোগ তৈরি করবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০-এ ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র ধাপে ধাপে সৌরচালিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যের সঙ্গেও প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও অনেক এলাকায় সেচের সময় বিদ্যুৎ ঘাটতি ও নি¤œ ভোল্টেজের সমস্যা থাকে। ফলে বিদ্যুৎচালিত পাম্প চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সৌরশক্তি সেচের একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।