দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাতক্ষীরায় ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

1

সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরার দেবহাটার কৃতি সন্তান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার মরহুম ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও কবর জিয়ারতসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দেবহাটার ঐতিহ্যবাহী টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুধীজনরা ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের স্মৃতি সংরক্ষণে সাতক্ষীরার একটি প্রধান সড়কের নাম তাঁর নামে করার দাবি জানান।

সকালে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। বেলা ১১টায় প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল ফজলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চৌধুরী আল মাহমুদ।

দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন মরহুমের সহধর্মিণী রাবেয়া শাহজাহান, দেবহাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ, দৈনিক ‘দক্ষিণের মশাল’-এর সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-ইলাহী, জাসদ নেতা সুধাংশু শেখর সরকার ও মীর জিল্লুর রহমান, সিপিবি সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি আবুল হোসেন, জাসদের প্রভাষক ইদ্রিস আলী এবং মরহুমের জ্যেষ্ঠ পুত্র সাংবাদিক ফারুক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরায় মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টার একটি অনন্য ও অবিচ্ছেদ্য নাম। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাতক্ষীরা মহকুমার মুজাহিদ ক্যাপ্টেন এবং টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পরপরই তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বক্তারা আরও বলেন, তাঁর নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দূরদর্শিতার কারণে সাতক্ষীরা অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং এ অঞ্চল দ্রুত পাকবাহিনী মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সভায় বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারকে স্থানীয়ভাবে ধীরে ধীরে ভুলে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁকে বাদ দিয়ে সাতক্ষীরার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

আলোচনা সভা শেষে বাদ জোহর মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর কবর জিয়ারত করা হয় এবং উপস্থিতদের মাঝে তাবারক বিতরণ করা হয়।