সাতক্ষীরায় বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসনের দাবি
সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরা শহরের নিম্নআয়ের মানুষ ও বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন এবং মৌলিক নগরসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ সড়কে বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের আয়োজনে মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নাগরিক নেতা আব্দুস সামাদ, জি এম রেজা, ইটাগাছা বস্তির বাসিন্দা জাহানারা খাতুন, ফিরোজা বেগম, হাফিজা খাতুন, কাজীপাড়া বস্তির সাহিদা খাতুন এবং বারসিকের কর্মসূচি কর্মকর্তা গাজী মাহিদা মিজানসহ অন্যরা।
মানববন্ধনে কাজীপাড়া বস্তির সাহিদা খাতুন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে তারা শহরে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বোতল, পলিথিন ও ময়লা সংগ্রহ করে তারা নগর পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখলেও তাদের নিজেদের থাকার জন্য নিরাপদ জায়গা নেই।
ইটাগাছা বস্তির জাহানারা বেগম বলেন, তারা ভোট দেন এবং মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। তাদের শ্রমের ওপর অনেক পরিবারের দৈনন্দিন কাজ নির্ভর করলেও সবসময় ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার আতঙ্কে থাকতে হয়। তিনি বাসস্থান, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও সন্তানদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ বলেন, উন্নয়নের নামে নিম্নআয়ের মানুষকে উচ্ছেদ না করে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। নগর পরিকল্পনায় স্থানীয় জলবায়ু বাস্তবতা, তাপঝুঁকি, আবাসন, নাগরিকসেবা, জীবিকা ও পরিবেশগত নিরাপত্তাকে সমন্বিত করার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
বারসিকের কর্মসূচি কর্মকর্তা গাজী মাহিদা মিজান বলেন, নগরের যেসব মানুষ প্রতিদিন নিজেদের শ্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখেন, তাদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত।
মানববন্ধন থেকে বস্তিবাসীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত, উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সহজ ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার, বস্তি এলাকায় সবুজায়ন, খোলা জায়গা ও নগর কৃষির সুযোগ বৃদ্ধি এবং জীবিকা ও কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়বর্ধক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানেরও দাবি জানানো হয়।