ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রেমিক ভাড়া’ বা ‘রেন্ট আ বয়ফ্রেন্ড’ দেওয়ার লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণীদের সঙ্গে প্রতারণার নতুন এক ফাঁদ পেতেছে সাইবার অপরাধীরা। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে হায়দরাবাদ পুলিশ হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনার ভি. সজ্জনার জানান, তদন্তে দেখা গেছে বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত তরুণদের ছবিগুলো সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি। বুকিং নিশ্চিত করার নামে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর প্রতারকরা অ্যাকাউন্ট ব্লক করে উধাও হয়ে যায়। শুধু আর্থিক প্রতারণাই নয়, ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেল বা হয়রানির বড় ঝুঁকিও রয়েছে এতে।
সময় অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা আছে পোস্টারে । ছবি- সংগৃহীত
বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘পুলিশ যখন সামাজিক মাধ্যম থেকে এই ধরনের প্রতারণার বিষয়ে জানতে পারে তখন এটা বোঝা যায় যে এটা একেবারেই নতুন ধরনের ফাঁদ। সম্প্রতি শুরু হয়েছে। কারা এটি পরিচালনা করছে, এর পেছনে কারা আছে, আমরা তা তদন্ত করে দেখছি। মনে হচ্ছে, এটি অন্য কোনও রাজ্য থেকে পরিচালিত হচ্ছে।’
এখন পর্যন্ত সরাসরি কেউ অভিযোগ না করলেও বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম শাখা। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালের তরুণীরা যেন এই ধরনের ডেটিং ফাঁদে পা না দেয়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মি. সজ্জনার সতর্ক করে বলেন, ‘অসৎ উদ্দেশ্যে ফোন নম্বর এবং ব্যক্তিগত ছবি অশ্লীল ভাবে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেলের ঝুঁকিও এ ক্ষেত্রে রয়েছে।’ তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, যদি কেউ এই ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হন বা সন্দেহজনক পোস্ট দেখেন, তাহলে যেন তারা অবিলম্বে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
ভারতে প্রতি বছর সাইবার অপরাধ বাড়ছে। ২০২৪ সালের জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে ৬৫,৮৯৩টি সাইবার অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছিল, যেখানে ২০২৩ সালে নথিভুক্ত হয়েছিল ৮৬,৪২০টি সাইবার অপরাধ। ২০২৪ সালে ১,০১,৯২৮টি সাইবার অপরাধ নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৮,৬১৫টি ঘটনা নারীদের সঙ্গে ঘটেছে। সাইবার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মোট ৬০১টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৭০টি মামলা নারীদের সঙ্গে জড়িত।
কাউন্সেলিং মনোবিদ অনিতা আরের পরামর্শ, সন্তানরা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছালে অভিভাবকদের উচিত সন্তানের প্রতি নিজেদের ব্যবহারে কিছুটা প্রয়োজনীয় বদল আনা। সংবাদমাধ্যমটিকে তিনি বলেন, ‘বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছালে কিশোরীরা এই ধরনের বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে। এছাড়াও, তাদের এই বয়সে নতুন সম্পর্কের প্রয়োজন মনে করে সমবয়সী ছেলেদের দেখলে তাদের প্রতি বিজ্ঞাপন দ্বারা আকৃষ্ট হতে পারে।’
‘বাড়িতে তাদের নেতিবাচক কথা বললে হবে না, তাদের বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন’, বলেন মিজ. আরে। তিনি বলেন, ‘বাইরের লোকজন কোনও রকম সমালোচনা ছাড়াই তাদের নানান রকম মিষ্টি ভাষণে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করবে, সে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।’