দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বাগেরহাটে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় তরুণীর মৃত্যু

17

বাগেরহাট :

বাগেরহাট পৌরসভার পুরাতন বাজার সংলগ্ন পলি ক্লিনিকে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় নাছিমা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপারেশনের সময় হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়।

নিহত নাছিমা আক্তার বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বারদাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সুমন সরদারের স্ত্রী।

পরিবার ও ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে পিত্তথলিতে পাথর থাকায় নাছিমা আক্তারকে পলি ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমারের তত্ত্বাবধানে তার অপারেশন শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর অপারেশন চলাকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে স্বজনদের তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

নাছিমার স্বামী সুমন সরদার অভিযোগ করে বলেন, তারা ক্লিনিকে অপারেশন করাতে চাননি। এরপরও চিকিৎসক তাদের সেখানে রাখেন। তার সাত মাস বয়সী সন্তান রয়েছে। স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তিনি চিকিৎসকের বিচার দাবি করেন। তার অভিযোগ, তাকে এক লাখ টাকা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

নাছিমার এক স্বজন বলেন, রাতে অপারেশন থিয়েটারের পাশে অবস্থানকালে তারা ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান। বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের বলা হয়, একজন নার্স চিৎকার করেছেন। রোগীর অবস্থা সম্পর্কে তাদের আশ্বস্ত করা হলেও পরে ভোরে মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা রতন অভিযোগ করেন, এর আগেও ওই ক্লিনিকে কয়েকজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ ও অবকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে পলি ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমার বলেন, নাছিমা আক্তার পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই সোমবার রাতে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় হঠাৎ তার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং তিনি মারা যান। প্রায় দুই ঘণ্টা তিনি অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত অপারেশনের আগে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনার মতো হয়েছে।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নাছিমার স্বজনরা ক্লিনিকে জড়ো হন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এখন পর্যন্ত রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. ম. মো. মাহবুবুল আলমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নাছিমা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।