দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, সরকার পাশে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

21

ঢাকা :

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশি উদ্যোক্তা হোন কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—বাংলাদেশে কেউ মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকারও সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে তার পাশে থাকবে। এটি শুধু আশ্বাস নয়, সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।

প্রধানমন্ত্রী দেশি-বিদেশি অতিথি, ব্যবসায়ী নেতা, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, ব্যবসার সাফল্য শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না; প্রবৃদ্ধি-সহায়ক সরকারি নীতিমালাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও রয়েছে দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও দক্ষ মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসমর্থনপুষ্ট নির্বাচিত সরকার। এসব শক্তিই বাংলাদেশকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। নির্বাচনি ইশতেহারে সেই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের শুধু বিনিয়োগ নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

সরকার প্রধান জানান, বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা জোরদার, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠন, করব্যবস্থা সহজীকরণ, মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।jagonews24

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, স্টার্টআপ খাতে সহায়তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বন্দর ও লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজও এগিয়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি, বিশ্বাসযোগ্য ও পারস্পরিক আস্থাভিত্তিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করে। তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলার অভিযাত্রায় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।