দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

প্রধানমন্ত্রীসহ যেসব মন্ত্রী, উপদেষ্টা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না

সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনে দৃষ্টান্ত

27

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচলের যে নীতি তিনি গ্রহণ করেছিলেন, তা শুরু থেকেই নিয়মিত অনুসরণ করে চলছেন। প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য এবং উপদেষ্টারাও সরকারি গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী, আটজন উপদেষ্টা এবং দুজন বিশেষ সহকারী। সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (পরিবহন পুল) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সরকারের শুরুর দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের গাড়ি, নিজস্ব চালক ও নিজ খরচে কেনা জ্বালানি ব্যবহার করছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে দিনের কর্মসূচিতে সাভার স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরে যান নিজের টয়োটা গাড়িতে চড়ে। সেখান থেকে সচিবালয়ে যান একই গাড়িতে। সেই থেকে এ পর্যন্ত তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার নীতিতে অটল রয়েছেন।

এমনকি নিজের নিরাপত্তার প্রটোকলও কমিয়ে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বহরে থাকা সাধারণ ১৩-১৪টি গাড়ির স্থলে কমিয়ে চারটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের দীর্ঘ সারিবদ্ধ অবস্থান বাতিল করা হয়েছে।

সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি অনুসরণ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (সুমন), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সরকারি গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন। তবে পূর্ণ মন্ত্রীদের কেউ এখনো এ তালিকায় যুক্ত হননি।

অন্যদিকে উপদেষ্টাদের মধ্যে আটজন- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও মো. রুহুল কবির রিজভী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান পরিবহন পুল থেকে কোনো সরকারি গাড়ি নেননি। তারা সবাই নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি সরকারি গাড়ির বদলে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচল করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অতীতে সরকারি গাড়ি নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতার দৃশ্য দেখা যেত, যার ফলে পরিবহন পুল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান সরকারি গাড়ি না নেওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় এই চর্চায় বড় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে সরকারের অর্থ ও জ্বালানি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন নীতিতে একটি বড় প্রভাব পড়ছে।

সরকারের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল মন্ত্রিসভার বৈঠকসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বৈঠকগুলো সচিবালয়ে স্থানান্তর করা। তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে বৈঠক হলে মন্ত্রীদের সচিবালয় থেকে যেতে যানজটের সৃষ্টি হতো এবং ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হতো। এর ফলে জ্বালানি খরচ ও জনভোগান্তি দুটোই অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে বিএনপি সরকার। সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের রোডম্যাপ বা ছয় মাস পূর্ণ হতে চলায় এখন বিভিন্ন উন্নয়ন ও অর্জনের হিসাব-নিকাশ চলছে।