দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে সাজছে নগরী, উৎসবের আমেজ সর্বত্র

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘিরে ব্যস্ত নগরবাসী, জোরদার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি

37

সড়কের বিভাজকে নতুন রঙের ছোঁয়া, পুরোনো স্থাপনায় তুলির আঁচড়, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বদলে যাওয়া নগরীর চেহারা, সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে নতুন সাজে প্রস্তুত হচ্ছে খুলনা।

আগামী ৫ নভেম্বর তাঁর খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রাজনৈতিক কর্মসূচি, প্রশাসনিক তৎপরতা ও নগরসজ্জার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি খুলনায় দ্বিতীয় সফর। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁর এ সফর ঘিরে নগরজুড়ে এখন বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনা শুধু প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর সুযোগই পাবে না, বরং সারা দেশের সঙ্গে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কার্যক্রম যুক্ত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনা নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। কোথাও সড়ক বিভাজকে রং করা হচ্ছে, কোথাও পুরোনো স্থাপনার দেয়ালে পড়ছে নতুন রঙের প্রলেপ। পাশাপাশি চলছে সড়ক ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কার্যক্রম।

নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে প্রস্তুতি। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রস্তুত, সব ক্ষেত্রেই সময়মতো কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সাময়িকভাবে সাজানো নগরী যেন পরবর্তী সময়েও পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর থাকে, এমন প্রত্যাশাও নগরবাসীর।

প্রিয় নেতাকে কাছ থেকে দেখা, তাঁর বক্তব্য শোনা এবং সফরের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন অনেকে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এ সফরের মাধ্যমে খুলনার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং আঞ্চলিক সম্ভাবনার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

খুলনা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগরী। শিল্প, বাণিজ্য, মৎস্য, পর্যটন ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কারণে এ অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সেই প্রত্যাশাও নতুন করে আলোচনায় আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অন্যতম আকর্ষণ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। খুলনা থেকে এ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করা হবে। এ সময় ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ক্রীড়াভিত্তিক এ আয়োজনের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশ, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন খেলোয়াড় তুলে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায়ের এমন কর্মসূচি খুলনায় অনুষ্ঠিত হওয়াকে স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নগরীর পরিচিতি বাড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া অবকাঠামো ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তরকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গাড়ি রিকুইজিশন, বিশ্রামস্থল, হেলিপ্যাড, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, জেনারেটর, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পাস-সংক্রান্ত প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সফরকালে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো সচল রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাহী সদস্য মঈনুর রহমান মঈন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে খুলনার নগরসজ্জা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি, সব ক্ষেত্রেই চলছে তৎপরতা। তবে নগরবাসীর কাছে এ সফরের গুরুত্ব শুধু কয়েক দিনের সাজসজ্জা কিংবা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের প্রত্যাশা, সফরটি খুলনার উন্নয়ন-সম্ভাবনা ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।

খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানান, জেলার সব সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ার প্রবণতা কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অবৈধ স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে খুলনাকে প্রস্তুত করছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যতবার খুলনা সফর করবেন, খুলনার উন্নয়ন ততই ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করি।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, খুলনা থেকে সারা দেশের জন্য এ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করা হবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে, যা কর্মসূচিটিকে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করবে।