দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পাইকগাছায় টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

31
খুলনা:

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমলেও টানা বর্ষণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পৌর সদরসহ বিভিন্ন বাজারের সড়কে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে ব্যস্ত বাজার ও সড়কগুলোতে নেমে এসেছে এক ধরনের স্থবিরতা।

বৃষ্টির কারণে নির্মাণকাজ, কৃষিকাজ এবং খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত অধিকাংশ শ্রমনির্ভর কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে।

বান্দিকাটী গ্রামের দিনমজুর ইউনুস গোলদার বলেন, “টানা তিন দিন ধরে কোনো কাজ করতে পারিনি। সংসারের বাজার কীভাবে করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

ভ্যানচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সারাদিন বৃষ্টির মধ্যে থেকেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। আয় না থাকায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”

শিক্ষার্থী স্বপ্ন সারথি জানান, কাঁচা রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়ায় স্কুল-কলেজে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী ও মৎস্যঘেরকেন্দ্রিক স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্যচাষি ও জেলেরা।

দৈনিক শ্রমিক ইসলাম সরদার বলেন, “একদিন কাজ না করলে ঘরে উনুন জ্বলে না। সেখানে টানা তিন দিন ধরে কাজ নেই। বৃষ্টি আরও চললে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।”

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে স্থানীয় বাজারে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ফলে বিক্রি কমে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

তবে কৃষকদের মতে, আষাঢ় মাসের এই বৃষ্টি আমন ধানের জন্য উপকারী হলেও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে কোথাও যাতে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিনও যদি একইভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তবে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।