দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

দাকোপে জেলা প্রশাসকের ব্যস্ত কর্মসূচি

আঠারোর আগে বিয়ে নয়, নারীর শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে’

40

দাকোপ:

খুলনার দাকোপ উপজেলায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত। এ সময় তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, খুলনার যৌথ আয়োজনে সরকার ঘোষিত এসডিজি মডেল গ্রাম পানখালী মমতাজ বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং বাল্যবিবাহ রোধে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, “বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে না, এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে পুরো সমাজের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। ১৮ বছরের আগে কোনো মেয়ের বিয়ে দেওয়া মানে তার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন খুলনা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের খুলনার উপপরিচালক আরিফুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেক্সোনা আক্তার, দাকোপ প্রেসক্লাবের সভাপতি শামিম হোসেন, এসডিজি ভিলেজ সমন্বয়কারী মো. মনোয়ার হোসেন এবং পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহমেদ।

অনুষ্ঠানে তৃণমূলের নারী প্রতিনিধি রেখা বেগম, রুবিয়া খাতুন, সুইটি দাস, বিলকিস বেগম, মনিরা বেগম ও মোস্তাক ফকিরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, নারী নেত্রী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।

উঠান বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি চালনা এনসি ব্লু বার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চালনা পৌরসভা, খাটাইল কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা ভূমি অফিস, পানখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পানখালী জেলে পল্লী, বটবুনিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প, বারইখালী আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং বানীশান্তা যৌনপল্লী পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও জনসেবাকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনসেবা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।