দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

খুলনায় এলজিইডি টেন্ডার বর্জনের হুঁশিয়ারি ঠিকাদারদের

9
বাজারে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে কয়েক দফা। অথচ সরকারি এস্টিমেটে সেই পুরোনো দরই বহাল রয়েছে। এ অসামঞ্জস্যের অভিযোগ তুলে খুলনায় এলজিইডির প্রায় ৪৯ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের টেন্ডার বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঠিকাদাররা। তাঁদের দাবি, বর্তমান দর বহাল রেখে কাজ নিলে লাভ তো দূরের কথা, শতভাগ লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে এস্টিমেট সংশোধন না হলে আগামী ৭ অক্টোবরের টেন্ডারে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন খুলনা জেলা এলজিইডি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে এলজিইডির ঠিকাদাররা সরাসরি যুক্ত। অথচ মাঝারি ধরনের ঠিকাদারদের জন্য ব্যাংক ঋণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে নির্মাণসামগ্রীর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু সরকারি এস্টিমেটে সেই বাস্তবতার প্রতিফলন নেই। সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক সংস্কারকাজে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে আগামী ৭ অক্টোবর। তাদের অভিযোগ, সরকারি এস্টিমেটে এক ব্যারেল বিটুমিনের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিলে ঠিকাদারের হিসাবে তা দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার টাকা। অথচ দেড়শ কেজির এক ব্যারেল বিটুমিনের বর্তমান বাজারদর প্রায় ১৯ হাজার টাকা। এতে কাজ শুরুর আগেই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে দাবি তাঁদের।

ঠিকাদাররা জানান, গত বছর টনপ্রতি পাথরের দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকা। বর্তমানে পরিবহন খরচ বাদেই তা বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৭০০ টাকা। ইটের দাম গত বছর প্রতি হাজারে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে কয়লার দাম টনপ্রতি ১৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। বালুর দামও প্রতি ঘনফুট ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা হয়েছে। ঠিকাদার সমিতির ভাষ্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নির্মাণসামগ্রীর দাম ও পরিবহন ব্যয়ে। কিন্তু সরকারি দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে তাঁরা স্বাগত জানান। তবে বর্তমান এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ করলে ঠিকাদারদের শতভাগ লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি উন্নয়নকাজের এস্টিমেট রেট পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাস্তবতার নিরিখে এস্টিমেট সংশোধন না হলে আগামী ৭ অক্টোবরের টেন্ডার বর্জন করতে বাধ্য হবেন ঠিকাদাররা।

সংবাদ সম্মেলনে খুলনা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বিশ্বাস, সিনিয়র সহসভাপতি আজগর আলী খান, সহসভাপতি আমির হোসেন খান, সহসভাপতি আমির হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর ফকির, কোষাধ্যক্ষ এস এম সালাউদ্দিন ও নির্বাহী সদস্য আলাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।