দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কেশবপুরে ২৪০ রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা, ছানি শনাক্ত ১১৮ জনের

29

কেশবপুর :

যশোরের কেশবপুরে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পে ২৪০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে ১১৮ জন ছানি রোগী ও চারজন অন্যান্য বিশেষ রোগী শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

৩০ আগস্ট স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা ‘সমাধান’-এর ব্যবস্থাপনায়, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় এ চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। কেশবপুরে সমাধান সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ক্যাম্পে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন ডা. বৃন্তা সাহা ও তাঁর সহকারী চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসাসেবা দেন।

সকাল থেকেই কেশবপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চোখের নানা সমস্যা নিয়ে রোগীরা ক্যাম্পে আসেন। আগত রোগীদের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ছানি রোগী শনাক্ত করা হয় এবং অন্যান্য রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।

ক্যাম্পে শনাক্ত হওয়া ছানি ও অন্যান্য বিশেষ রোগীদের মধ্যে ৫৫ জনকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য খুলনার শিরোমণি বাদামতলা এলাকায় অবস্থিত বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিজস্ব পরিবহনে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার শেষে তাদের পুনরায় নিজস্ব পরিবহনে কেশবপুরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ছাড়া শনাক্ত হওয়া অবশিষ্ট ৬৩ জন ছানি রোগীকে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতালে নিয়ে বিনামূল্যে চক্ষু অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

সমাধান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, “দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এ ধরনের কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ছানি রোগের কারণে অনেক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা গেলে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়।”

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতায় কেশবপুরের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

সমাধান সংস্থার পরিচালক (সার্বিক) মো. শাহীনুর রহমান বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ অর্থনৈতিক কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। এ ধরনের ক্যাম্প তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রোগী শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে হাসপাতালে নেওয়া, অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তীতে নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।”

পরিচালক (কার্যক্রম) আবু জাফর মাতুব্বর বলেন, “চোখের সমস্যাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ক্যাম্পে রোগীদের প্রাথমিক পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, তাদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের আওতায় আনা হচ্ছে।”

পরিচালক (অর্থ) মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “একজন মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া তাঁর নিজের পাশাপাশি পুরো পরিবারের জন্যও স্বস্তির বিষয়। অর্থের অভাবে যাতে কোনো মানুষ চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী মো. মুনছুর আলী বলেন, কেশবপুরে আয়োজিত ক্যাম্পে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। অনেক রোগী দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। বিনামূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ছানি রোগীদের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা হওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের সেবা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ক্যাম্পে আসা রোগীদের অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। বিশেষ করে হাসপাতাল পর্যন্ত যাতায়াত এবং অস্ত্রোপচারের পর কেশবপুরে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করায় তারা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন সমাধান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল করিম, পরিচালক (সার্বিক) মো. শাহীনুর রহমান, পরিচালক (কার্যক্রম) আবু জাফর মাতুব্বর, পরিচালক (অর্থ) মো. শাহাদাৎ হোসেন, প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী মো. মুনছুর আলীসহ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অর্থের অভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফেরার সুযোগ তৈরি করে।