কেশবপুরে স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে কর্মশালা
কেশবপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:যশোরের কেশবপুর গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, কেশবপুর এবং ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্প।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেশকাতুল ইসলাম, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন এবং গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায়।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনজু মনোয়ারা বেগম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালি রানী দাস, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা কো-অর্ডিনেটর শংকর কুমার দাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, গ্রাম আদালত হলো সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি সহজ, দ্রুত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী মাধ্যম। গ্রামের মানুষকে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি দিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও জনপ্রিয় করতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর পদ্ধতি। ভূমি সংক্রান্ত ক্ষুদ্র বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিষয়ের দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে এটি সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং মামলা জট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে আরও বেশি মানুষ এই সেবার সুফল ভোগ করতে পারবেন।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন, অনেক ছোটখাটো বিরোধ সময়মতো নিষ্পত্তি না হওয়ায় তা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়। গ্রাম আদালত এসব বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হয় এবং জনগণের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে।
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায় বলেন, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে গঠিত এ আদালত অনধিক তিন লাখ টাকা মূল্যমানের নির্দিষ্ট দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। এখানে অল্প খরচে, দ্রুত সময়ে এবং আইনজীবী ছাড়াই বিচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই গ্রাম আদালতকে জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, বিচারিক এখতিয়ার, আবেদন প্রক্রিয়া, বিরোধ নিষ্পত্তির সুবিধা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের সম্পৃক্ততা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালতের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে— অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে।