কেশবপুরে রিইবের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত
নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
কেশবপুর :
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার সুরক্ষা, সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে যশোরের কেশবপুর উপজেলা মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় পৌর বাড়ি মালিক সমিতির হলরুমে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব)-এর ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার ও সামাজিক অংশগ্রহণ শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক হোপ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। কেশবপুর উপজেলা সিএসও কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সভায় স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা, নারী ও কিশোরীদের সামাজিক অংশগ্রহণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রিইবের উপজেলা সিএসও কমিটির সভাপতি মো. হারুনার রশীদ বুলবুল। উপস্থিত ছিলেন রিইবের কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল, লাভলি ও অশোক দাস; সিএসও কমিটির সহসভাপতি ও কেশবপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপ কুমার মোদক মানিক, আকমল হোসেন, মিজানুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহমান রকি, আব্দুল জলিল, নূরুল ইসলামসহ অনেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রিইবের টেকনিক্যাল অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর তাহেরা সিদ্দিকা।
সভায় নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারবঞ্চনার বিষয়গুলো চিহ্নিত করা, মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রতিকার পাওয়ার পথ সুগম করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মো. হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সমাজের মূলধারায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটিকে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নারী ও কিশোরীরা যেন বৈষম্য, বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার শিকার না হয়, সে জন্য তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠান সঞ্চালক তাহেরা সিদ্দিকা বলেন, হোপ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ত্রৈমাসিক সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং অধিকার সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, নারী ও কিশোরীদের অধিকার নিশ্চিত করতে শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করলেই হবে না; তাদের মতামত প্রকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার পরিবেশও তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটি, স্থানীয় নেতৃত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা তুলে ধরা এবং নারী ও কিশোরীদের সামাজিক অংশগ্রহণ সম্প্রসারণে নিয়মিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ত্রৈমাসিক সভা স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকারবিষয়ক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পথ সুগম হতে পারে।