দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কেশবপুরে প্রবাসে পাঠানো নিয়ে বিরোধ: সংবাদ সম্মেলনে প্রতারণা ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ

৮ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধে চাপ, তদন্তের দাবি

9

হারুনার রশীদ বুলবুল কেশবপুর( যশোর) প্রতিনিধি :যশোরের কেশবপুরে প্রবাসে লোক পাঠানোকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, জিম্মি করা এবং জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ মিলন হোসেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) কেশবপুর নিউজ ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ মিলন হোসেন জানান, তিনি উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জিহাদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তিকে ঢাকার এবি ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠাতে সহায়তা করেন। তারা সেখানে পৌঁছে একটি আবাসিক হোটেলে কাজ পান, কিন্তু কাজ পছন্দ না হওয়ায় তা ছেড়ে দেন।

পরবর্তীতে তারা নতুন কাজের জন্য মিলন হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ১০ দিনের মধ্যে কাজের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের আকামা প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেন। কিন্তু এরপর তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে আত্মীয়দের কাছে ওমরাহ পালনের কথা বলে চলে যান।

এদিকে একই গ্রামের মাহাফুজুর রহমানকে সৌদি আরবে ওয়্যারহাউজ কর্মী হিসেবে পাঠানোর জন্য ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ও বিমান টিকিট প্রস্তুত করা হলেও শেষ মুহূর্তে তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানান।

এ বিষয়ে কথা বলতে গত ৮ এপ্রিল মাহাফুজুর রহমানের বাড়িতে গেলে জিহাদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মিলন হোসেনকে জিম্মি করে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর থানায় নিয়ে আসে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ৯ এপ্রিল থানায় বসেই তাকে ও তার শাশুড়িকে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে দেওয়া স্ট্যাম্পে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২২ এপ্রিলের মধ্যে জিহাদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামকে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মাহাফুজুর রহমানকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে মিলন হোসেন যশোর জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার এবং কেশবপুর থানা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।