দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ৩০ জুন

20

ঢাকা :
জুলাই আন্দোলন তথা গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর

মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় উসকানি, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্ররোচনা, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে আন্দোলন দমনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করার অভিযোগ।

এর আগে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল। সোমবার সেই ধারাবাহিকতায় রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে দাবি করেছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে খালাস প্রার্থনা করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং ফারুক আহাম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরীসিফাত মাহমুদ

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন ইনু। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শীর্ষ নেতা হিসেবে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র আওতায়ও তার দায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর টেলিফোন আলাপের কোনো অংশে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গুলি, বোমা হামলা বা নির্যাতনের নির্দেশনার প্রমাণ নেই। প্রসিকিউশনের দাখিল করা নথিতেও এমন কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এছাড়া বহু মানুষ আহত হন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রসহ আটটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ইনু আটক হন। পরে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সাবেক তথ্যমন্ত্রী ইনু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ আসনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।