দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

আজ থেকে নেট-পাটা অপসারণে মাঠে প্রশাসন, শুরু ৫০ দিনের কর্মপরিকল্পনা

কপোতাক্ষ, ইছামতি ও বেতনার ৩০২ অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রকাশ; পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু

25

সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরার নদ-নদী ও নৌ-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং নাব্যতা রক্ষায় আজ শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে নেট-পাটা অপসারণ অভিযান শুরু করছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে কপোতাক্ষ, ইছামতি ও বেতনা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদী ও খালের ৩০২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রকাশ করে পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনায় সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত ও পুনঃযাচাই শেষে দীর্ঘমেয়াদি উচ্ছেদ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি ইতোমধ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং জনসচেতনতার জন্য জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কপোতাক্ষ, ইছামতি, বেতনা নদী ও বিভিন্ন নৌ-খালের সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী-অস্থায়ী ঘর, সীমানা প্রাচীর, মাছের ঘের, পুকুর, আমবাগান, ফসলি জমি, ইটভাটা ও শিল্পকারখানা নির্মাণ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রাধানগর মৌজায় ইছামতি নদীর তীরে প্রায় ১০ জন বড় দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া বিনেরপোতা মৌজায় বেতনা নদীর জায়গা দখল করে সীমানা প্রাচীর ও ফ্যাক্টরির ছাউনি নির্মাণের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব স্থানে উচ্ছেদের জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বেতনা নদীতে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রশাসনের তথ্যমতে, বাবুলিয়া মৌজায় নৌ-খাল দখল করে ধান ও মাছ চাষ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘কামরুল এসবিবি’ ও ‘মনির এসবিএল’ নামে দুটি ইটভাটা নদীর সীমানার ভেতরে গড়ে তোলার প্রমাণও মিলেছে।

সবচেয়ে বেশি দখলদারিত্বের চিত্র পাওয়া গেছে তালা উপজেলার মাগুরা, জগদানন্দকাটি, পুটিয়াখালী, রাজেন্দ্রপুর ও জালালপুর মৌজার কপোতাক্ষ নদ এলাকায়। সেখানে শতাধিক ব্যক্তি নদীর জায়গা দখল করে বসবাস করছেন। এসব এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

তবে প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিক সংকট এবং দখলদারদের মধ্যে অনেক ভূমিহীন পরিবারের উপস্থিতি উচ্ছেদ অভিযানের বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই প্রায় ৫০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নদী এলাকা দখলমুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরা জেলা সম্পাদক ও জাতীয় নদী সুরক্ষা কমিটির সদস্য মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, নদী রক্ষায় আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। চিহ্নিত দখলদারদের দ্রুত উচ্ছেদে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে বড় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। আজ শনিবার থেকেই নেট-পাটা অপসারণ অভিযান শুরু হচ্ছে। এরপর বড় দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। উদ্ধারকৃত নদীর জায়গায় বনায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।