দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই

34

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে কে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য বা অযোগ্য, তা বিদ্যমান আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তা নিয়ে আগ্রহীদের বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই। আইন অনুযায়ী যাদের প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বাধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধান পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে আইনগত মতামত বা ব্যাখ্যার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি পাঠাতে পারে। তখন আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনে কার প্রার্থিতা বৈধ হবে আর কে অযোগ্য হবেন—এটি নির্ধারণের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতা নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর দায় চাপানোর সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদে সংশ্লিষ্ট আইন বা বিল পাসের সময় বর্তমান বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ও দলীয় মনোনয়ন ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়টিও এর আগে স্পষ্ট করেছেন মীর শাহে আলম। গত ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে তিনি বলেছিলেন, আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। দলীয়ভাবে নির্বাচন না হওয়ায় কোনো দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে না।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে সমর্থন করতে পারবে কি না—সেটি আলাদা বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মীর শাহে আলম এর আগে জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি স্থানীয়ভাবে সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার না করার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল দায়িত্ব হবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা। বৈধ প্রার্থীরা যাতে নিরাপদে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।