দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

জামালপুরে পরিত্যক্ত আ.লীগ নেতাদের স্থাপনা এখন মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডাখানা

39

জামালপুর :

জামালপুর শহরের একাধিক বহুল পরিচিত রাজনৈতিক স্থাপনা ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিত্যক্ত বাসভবন এখন মাদকসেবী, বখাটে ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।

শহরের বকুলতলা এলাকায় অবস্থিত সাবেক মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের বাসভবন, আলেয়া গার্ডেন এবং জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, একসময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মুখর থাকা এসব স্থাপনা এখন জনশূন্য ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে মালিকপক্ষের কেউ ফিরে না আসায় ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সেই সুযোগে সেখানে মাদকসেবী ও বখাটেদের আনাগোনা বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুরের চিহ্ন, আগাছায় ভরা আঙিনা এবং ব্যবহৃত মাদকের সরঞ্জাম, সিগারেটের খালি প্যাকেটসহ বিভিন্ন আলামত পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের বেলায় এসব স্থাপনা অনেকটাই নির্জন থাকলেও সন্ধ্যার পর সেখানে বিভিন্ন বয়সী তরুণদের সমাগম ঘটে। অনেকেই সেখানে মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বকুলতলা এলাকার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বৃষ্টি বলেন, “আগে এই বাড়িতে অনেক মানুষের যাতায়াত ছিল। এখন এটি বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয়ের পাশে হওয়ায় আমরা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হই।”

রিকশাচালক জালাল বলেন, “একসময় এটি মন্ত্রীর বাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সন্ধ্যার পর মাদকাসক্ত ও অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গভীর রাত পর্যন্ত এসব স্থাপনায় লোকজনের আনাগোনা, উচ্চস্বরে গান বাজানো ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে নজরদারির অভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলনের কর্মী এহসান বলেন, “পরিত্যক্ত এসব স্থাপনা এখন সামাজিক অবক্ষয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব বড় স্থাপনা শুধু মাদকসেবীদেরই আকৃষ্ট করছে না, বরং সেখানে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং তৎপরতাসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার নিকটবর্তী হওয়ায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তা জোরদার এবং এসব স্থাপনার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ##