দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

খুবিতে শহিদ মীর মুগ্ধ’র দ্বিতীয় শাহাদাৎবার্ষিকী পালিত

28

খুলনা:

জুলাই আন্দোলনে শহিদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ২০১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ’র দ্বিতীয় শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১৮ জুলাই) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

দিবসটি উপলক্ষে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ‘জুলাই বিপ্লব থেকে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অদম্য বাংলা চত্বরে জুলাই আন্দোলনের স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বিসিবি পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, শহিদ মীর মুগ্ধ’র পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহিদ সাকিব রায়হানের পিতা শেখ আজিজুর রহমান, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী। স্বাগত বক্তব্য দেন দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত।

আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। বাকস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে চেতনা থেকে আন্দোলনের জন্ম, তা সমুন্নত রাখতে হবে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ মীর মুগ্ধ’র নামে নতুন আবাসিক হল নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, শহিদ মীর মুগ্ধ’র আত্মত্যাগ নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথ উন্মুক্ত করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং শহিদ মীর মুগ্ধ’র নামে আবাসিক হল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

বিসিবি পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, মীর মুগ্ধ বিলাসী জীবন ছেড়ে রাজপথে নেমে তৃষ্ণার্ত মানুষের হাতে পানি তুলে দিতে গিয়ে শাহাদাৎ বরণ করেন। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেম ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, শহিদ মীর মুগ্ধ মানবিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর আত্মত্যাগ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়ানোর প্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি জুলাই শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শহিদ মীর মুগ্ধ’র স্নাতক পরীক্ষার সনদ তাঁর পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শহিদ মীর মুগ্ধ ও শহিদ সাকিব রায়হানের পরিবারকে সম্মাননা জানানো হয় এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

আলোচনা সভায় শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন গণিত ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. আজমল হুদা। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার এবং গণিত ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্মারকলিপি সংসদ সদস্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।