দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কয়রায় চার শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পানির ট্যাংক বিতরণ

105

কয়রা :

খুলনার কয়রায় সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে চার শতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের হারুনগাজীর মোড়সংলগ্ন এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের ‘স্কেল এলএলএ’ প্রকল্পের ‘যাকাত’ ফান্ডের আওতায় এসব ট্যাংক বিতরণ করা হয়। প্রতিটি ট্যাংকের ধারণক্ষমতা দুই হাজার লিটার।

জানা গেছে, কয়রা সদর ইউনিয়নে ২২৯টি এবং মহারাজপুর ইউনিয়নে ১৭১টি পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পরিবারের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার এবং শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির সংকট কিছুটা লাঘব করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে পানির ট্যাংক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ সদস্য ফরহাদ হোসেন, রাসেল আহমেদ, ইউপি সদস্য জামাল ফারুক জাফরিন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. গাজীউর রহমান, সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা তৈয়েবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাংক পেয়ে কয়রা ইউনিয়নের ৬ নম্বর কয়রা গ্রামের উপকারভোগী আজিবার রহমান বলেন, “একটি পানির ট্যাংক আমার কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। অনেক চেষ্টা করেও ট্যাংক কিনতে পারিনি। পরিবারের পানির চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হতো। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা না থাকায় দূর থেকে পানি কিনে এনে পান করতে হতো। এখন ট্যাংকে পানি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারব। এতে পানির কষ্টের পাশাপাশি বাড়তি খরচও কমবে।”

মহারাজপুর ইউনিয়নের শ্যামখালী গ্রামের আমেনা খাতুন বলেন, “অসুস্থ শরীর নিয়ে গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত খাবার পানি সংগ্রহ করতে যেতে হতো। একদিকে পরিবার সামলানো, অন্যদিকে খাবার পানির সংগ্রাম। ট্যাংক পেয়ে কিছুটা হলেও উপকার হবে। বৃষ্টির সময় পানি ধরে রেখে পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করতে পারব।”

উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় উপজেলা কয়রার সাতটি ইউনিয়নেই লবণাক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে এসব পরিবারের পানির কষ্ট অনেকটাই কমবে। এ ধরনের প্রকল্প উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, “উপকূলীয় কয়রায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা হলে নিরাপদ পানির চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। আমরা আশা করি, উপকারভোগীরা ট্যাংকগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবেন। পাশাপাশি নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”