দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

এসএসসি-২০২৭ পরীক্ষার ফল উন্নয়নে কেশবপুরে ব্যতিক্রমী প্রাক-মূল্যায়ন

45

 কেশবপুর :

আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করা, পরীক্ষাভীতি দূর করা এবং উপজেলায় পাসের হার বাড়াতে যশোরের কেশবপুরে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী প্রাক-মূল্যায়ন পরীক্ষা। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে এ ধরনের মূল্যায়নকে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ বিশেষ মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার ১১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার মোট ২ হাজার ৪৫০ জন শিক্ষার্থী এ প্রাক-মূল্যায়ন পরীক্ষায় নিবন্ধন করেছে। প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ২৯৫ জন শিক্ষার্থী।

পরবর্তী দুই শনিবার যথাক্রমে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ও সাধারণ গণিত বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বর্তমান অবস্থা যাচাই, দুর্বলতা চিহ্নিত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা পরিচালনার জন্য পাঁচটি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো—কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেশবপুর বাহরুল উলুম কামিল মাদরাসা, কেশবপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সাগরদাঁড়ি এমএম ইনস্টিটিউশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কেশবপুর উপজেলার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। গত বছর প্রায় ২ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাধ্যমিকে পাসের হার ছিল ৫৩ শতাংশ এবং দাখিলে ৪৭ শতাংশ। ফলে দুই ধারার পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়ায় প্রায় ৫০ শতাংশে।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের শুরু থেকেই প্রস্তুতির আওতায় এনে তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত ও তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ বিশেষ প্রাক-মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।

কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, গত বছরের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার সামগ্রিক ফলাফল সন্তোষজনক ছিল না। আগামী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা যেন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ভালো করতে পারে, সে লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসনের পরামর্শে এ বিশেষ মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থীদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কেশবপুরে যোগদানের পরপরই বিগত পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষাভীতি দূর করে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ প্রাক-মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। নিয়মিত অনুশীলন ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধনের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাবেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০২৭ সালের চূড়ান্ত পরীক্ষায় কেশবপুরের শিক্ষার্থীরা আশাব্যঞ্জক ফলাফল অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পরীক্ষার ফলাফল বৃদ্ধিতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তাঁদের মতে, চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে নিয়মিত এ ধরনের মূল্যায়ন হলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাভীতি কমার পাশাপাশি নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।