দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

আর্জেন্টিনা হাল ছাড়েনি

33

শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ, পরে ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সমতা ফেরানোর অস্বস্তি এবং সবশেষ অতিরিক্ত সময়ের নৈপুণ্যে জয়ের বন্দরে পৌঁছানো- আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি বার্তায় সব ফুটে উঠল একসাথে। দলের দৃঢ়তাপূর্ণ মানসিকতার প্রশংসা করতে গিয়ে, এই মহাতারকা বললেন- এই দল কখনও বিশ্বাস হারায় না।

ক্যানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জেতা ম্যাচে, আত্মবিশ্বাসী শুরু পায় আর্জেন্টিনা। দশম মিনিটে মেসির কর্নার থেকে দলকে এগিয়ে নেন আলেক্সিস মাক আলিস্তের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতায় ফিরে সুইজারল্যান্ড।

৭২তম মিনিটে বাগাইল এমবোলা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড, তবু দমেনি তারা। দারুণ লড়াই করে, তারা ম্যাচ টেনে নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ব্যবধান গড়ে দেন হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারে মার্তিনেস। আর্জেন্টিনাও টানা দুটি বিশ্বকাপে উঠে যায় সেমি-ফাইনালের মঞ্চে। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় অধিনায়কের কণ্ঠে ফুটে উঠল স্বস্তি, ‘এই জয়ে আমি খুব খুশি, এটি ভীষণ কঠিন লড়াইয়ের পর পাওয়া জয়। আমরা জানতাম, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। সামনের ম্যাচের আগে, স্বস্তিতে একটা সপ্তাহ কাটাতে, এই জয়টি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

সেমি-ফাইনালে আটলান্টার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা। প্রথমবারের মতো, প্রতিযোগিতামূলক ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন মেসি। তবে, এ মুহূর্তে, এই মহাতারকা যেন সুইস বাধা পেরুনোর উদযাপনেই ব্যস্ত। অধিনায়কের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ফুটে ওঠে, দল নিয়ে তার উচ্ছ্বাস। ম্যাচের বেশ কিছু মুহূর্তের ছবি দিয়ে, মেসি তুলে ধরেছেন দলের শক্তির জায়গা, ‘আমরা আবারও ভুগলাম, কিন্তু এই দল কখনও বিশ্বাস হারায় না। বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে ফিরে এসেছি (সেমি-ফাইনালে উঠেছি)!!! এগিয়ে চলো!!!!’

চার বছরের ব্যবধানে, দুই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথচলায়, মিল-অমিল দুটোই আছে। ২০২২ বিশ্বকাপের পথচলা আর্জেন্টিনা শুরু করেছিল, সউদী আরবের বিপক্ষে হেরে। নকআউট পর্বেও সঙ্গী ছিল আশা-শঙ্কার দোলাচল। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর, শেষ কোয়ার্টার-ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জিততে হয়েছিল টাইব্রেকারে। সেমি-ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের পর, ফাইনালে একটা সময় পর্যন্ত জয়ের পথে দুর্দান্ত গতিতে ছুটছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু, লুসাইলে কিলিয়ান এমবাপের অবিশ্বাস্য ঝলকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ফ্রান্স। ৩-৩ সমতার পর শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বাজিমাত করেছিল শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে। আলবিলেসেস্তাদের বিশ্বকাপের আঙিনায় ৩৬ বছরের সাফল্য খরার হয় অবসান।

এবার শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ছিল দুর্বার। তিন ম্যাচের সবগুলোতে অধিপত্য করে জিতে স্কালোনির দল। কিন্তু নকআউটে এসে, একের পর এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে মেসি-মার্তিনেসদের। নবাগত কেইপ ভার্ড ও মিশর-দুই দলকেই তারা হারায় ৩-২ ব্যবধানে। শেষ বত্রিশে কেইপ ভার্ড ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়ে, আত্মঘাতী গোলে হারে।

শেষ ষোলোয়, ৭৯তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে মিশরের বিপক্ষে জিতে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার-ফাইনালেও সুইজারল্যান্ড ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনার। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে, ৬৭তম মিনিটে সমতায় ফিরে সুইসরা। পাঁচ মিনিট পর বাগাইল এমবোলা দ্বিতীয় হলুদ পেলে ১০ জনের দল নিয়েও দুর্দম্য মানসিকতায় লড়ে যায় তারা। হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারে মার্তিনেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনা পার হয় সেরা আটের বৈতরণী।

তবে, লিওনেল স্কালোনি দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এখন তিনি এবং তার দল আরও অভিজ্ঞ, পরিণত। সব পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা, মানসিক শক্তি এই আর্জেন্টিনার আগের চেয়ে আরও বেশি। প্রতিপক্ষের প্রবল প্রতিরোধ নিয়ে ম্যাচ শেষে বলতে গিয়ে, আর্জেন্টিনা কোচের কণ্ঠে ফুটে উঠল, মেসি-মার্তিনেসদের মানসিক দৃঢ়তা, ‘কাতারে আমরা অভিজ্ঞ ছিলাম না।

এমনকি আমিও ছিলাম অনভিজ্ঞ (কোচ) এবং ওই ধরনের পরিস্থিতিগুলো ছিল ভীষণ কঠিন। তবে, এখন আমরা আরও অভিজ্ঞ। কেননা, আমরা জানি, প্রতিপক্ষের অধিপত্যে কোণঠাসা হয়ে পড়লে, সমতাসূচক গোল হজম করে বসলে, কেমন অনুভূতি হয়। আজ আমরা আমাদের সংযম রেখেছি, অস্থির হয়ে যায়নি। দল জানে, কীভাবে শান্ত থাকতে হয়। অবশ্যই, আমরা কখনই হাল ছাড়ব না।’
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আটলান্টায়, বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।