দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

‘আমরা আর ডুবতে চাই না, এখনই সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নিন’

25

সাতক্ষীরা :

“আমরা আর জলাবদ্ধতায় ডুবতে চাই না। এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আবারও জলাবদ্ধতার ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আগেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

বুধবার (১৭ জুন) সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ) আয়োজিত ‘বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

গ্রীন কোয়ালিশন (সবুজ সংহতি) সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত।

অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান।

বক্তারা বলেন, গত বছর জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করার পর প্রশাসন ঘেরের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

তারা বলেন, নদী ও খাল পুনঃখননের মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগলেও জরুরি ভিত্তিতে পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগ পরিষ্কার করা, প্রাণসায়ের খালের দুই মুখ উন্মুক্ত করা এবং বেতনা নদী সংলগ্ন বিলগুলোর পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অপরিকল্পিত ঘেরের বাঁধ অপসারণ করা প্রয়োজন।

সংলাপে বক্তারা আরও দাবি করেন, সমগ্র জেলার খাল-বিল, নদী-নালা দখলমুক্ত করতে হবে এবং সব ধরনের নেটপাটা ও অবৈধ আড়াআড়ি বাঁধ অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি মৎস্য ঘের স্থাপনের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের জন্য ‘আউট ড্রেন’ রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

নাগরিক নেতা ও সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, নাগরিক নেতা আলী নুর খান বাবুল, বারসিকের নগরবিদ জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক এম কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, ফরিদ হোসেন ময়না, আহসানুর রহমান রাজীব, গ্রীন কোয়ালিশনের যুগ্ম সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন ও অ্যাডভোকেট এসএম বিপ্লব হোসেন, আসাদুজ্জামান সরদার, সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী, ইয়ুথ অ্যাডাপটেশন ফোরামের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, হৃদয় মণ্ডল, ইফতি জামিল, জাহানারা খাতুন ও এরশাদ আলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সংলাপে বক্তব্য দেন।

সংলাপ থেকে সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— সাতক্ষীরা পৌর এলাকাকে সমন্বিত ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, প্রাণসায়ের খালের সঙ্গে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংযুক্ত করা, পৌর এলাকার বাণিজ্যিক মৎস্য ঘের নিয়ন্ত্রণ, অকেজো স্লুইসগেট সচল করা, বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং জেলার প্রধান নদীগুলোর আন্তঃসংযোগ পুনঃখননের মাধ্যমে সচল করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদর ইউএনও অর্ণব দত্ত বলেন, জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা এবং পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের আশ্বাস দেন।