দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

আন্দোলন প্রত্যাহারের পর ভারতে চলছে ধরপাকড়

32
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের এক সপ্তাহ পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে আটক ও গ্রেফতারসহ পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভসংক্রান্ত পোস্ট ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে ব্যবহারকারীদের চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে।

উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে গত ২৬ জুলাইয়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ২১ বছর বয়সী এক যুবককে পুলিশ আটক করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি ছবির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয় বলে জানা গেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওই যুবকের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে তাকে মারধর করা হয়েছে এবং বিজেপির এক নেতার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে ভুলভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি জানান, বিক্ষোভে অংশ নিলেও কোনো ভাঙচুরে তিনি জড়িত ছিলেন না।

তবে প্রয়াগরাজ পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল এবং পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২৬ ও ২৭ জুলাই সিভিল লাইনস থানায় তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। পৃথক সূত্রে আরও ১০ জনকে গ্রেফতারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

বিহারে নাবালকসহ ৪০ জন আটক

বিহারের ভাগলপুরে ২৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে বাড়ি থেকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেসের আইন বিষয়ক শাখার পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা ঋষভ রঞ্জনের দাবি, ২৬ জুলাই ভোরে ওই কিশোরকে আটক করা হয়। বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর ভাগলপুরে মোট ৪০ জনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে ভাগলপুর সিটির পুলিশ সুপার অতুলেশ ঝা জানিয়েছেন, ওই কিশোরকে নিয়ম অনুযায়ী জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে হাজির করা হয়েছে এবং তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভের ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে এবং গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

সিসিটিভির ছবি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ

বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে প্রকাশ করা ১৫৫ জনের ছবি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়েই ছিলেন।

ইনস্টাগ্রাম থেকে ভিডিও সরানোর অভিযোগ

এদিকে বিক্ষোভসংক্রান্ত ভিডিও ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ। ব্যবহারকারী অক্ষয় চন্দ্র মাধব দাবি করেছেন, পুলিশের আচরণ ও বিক্ষোভে সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে পোস্ট করা তার কয়েকটি ভিডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।

৩৬ দিনের আন্দোলন স্থগিত

এর আগে ২৫ জুলাই ককক্রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন স্থগিত করে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রধান দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ, NEET পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মহত্যা করা ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা।

তবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি অব্যাহত থাকলে আবারও আন্দোলনে ফেরার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককক্রোচ জনতা পার্টি।