দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

৬ মাস চিকিৎসার পর সুন্দরবনে অবমুক্ত সেই বাঘিনী

11

মোংলা:

চোরা শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে আহত হওয়া সেই রয়েল বেঙ্গল বাঘিনীকে দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর আবারও সুন্দরবনে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়।

অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ঢাকা ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার কনজারভেশন অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) সানাউল্লাহ পাটোয়ারী, খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাসানুর রহমান, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী, খুলনা ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল, চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস এবং করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির।

বন বিভাগ জানায়, গত ৪ জানুয়ারি মোংলার বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্পসংলগ্ন শড়কির খাল এলাকা থেকে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হয়, উদ্ধারের চার থেকে পাঁচ দিন আগে চোরা শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে তার সামনের বাম পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এতে বাঘিনীটি অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়ে।

পরে ঢাকা থেকে আসা বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল ট্রাঙ্কুলাইজারের মাধ্যমে বাঘিনীটিকে অচেতন করে উদ্ধার করে খুলনার বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে টানা ছয় মাস চিকিৎসা, পরিচর্যা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘিনীটির চলাচল ও অভিযোজন পর্যবেক্ষণের জন্য অবমুক্ত এলাকার প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ১৯টি ইনফ্রারেড ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া যেখান থেকে বাঘিনীটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আরও একটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মোট ২০টি আধুনিক ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘটির গতিবিধি, ছবি ও ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিচরণ করে। তাই বাঘিনীটি পূর্বের এলাকায় ফিরে আসে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। বাঘিনীটিকে উদ্ধারস্থল থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। বাঘিনীটির বয়স আনুমানিক ৯ থেকে ১০ বছর এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো আহত রয়েল বেঙ্গল বাঘকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ করে পুনরায় প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হলো। এটি দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।