দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা

23

বেনাপোল :

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের কয়েকটি শেডে পানি ঢুকে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ পণ্য পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন আমদানিকারকরা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বেনাপোলসহ শার্শা অঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর প্রভাবে বেনাপোল বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন কয়েকটি পণ্যাগারে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল পানিতে ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।

বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, বেনাপোল বন্দরে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে প্রতি বর্ষায় শত শত কোটি টাকার পণ্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ে।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মহসিন মিলন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো ড্রেনেজ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমদানিকারকদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়। অধিকাংশ পণ্যের বীমা না থাকায় ক্ষতিপূরণও পাওয়া যায় না।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে বহু ব্যবসায়ীর কোটি কোটি টাকার মালামাল ভিজে গেছে। বন্দরের ভাড়া বাড়লেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবেই প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দর প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। সরকার এ বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক কাজী রতন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি প্রবেশ করে কিছু মালামাল ভিজেছে। পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বন্দরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের কাজ চলছে।