দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৩ সদস্য

33

প্রতিবেদন:
মোংলা প্রতিনিধি | দৈনিক খুলনা

সুন্দরবনের মোংলা উপজেলার জয়মনিরঘোল এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হাড়বাড়ীয়া স্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত তিনজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোংলা থানার আওতাধীন জয়মনিরঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ কারণে এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়। স্টেশন স্থাপনের ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।

কোস্ট গার্ডের দাবি, এ পরিস্থিতিতে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা ওই এলাকায় বাহিনীর উপস্থিতি মেনে নিতে পারছে না। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে একদল দুর্বৃত্ত জয়মনিরঘোলে অবস্থিত কোস্ট গার্ড স্টেশনে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে তিন সদস্য আহত হন।

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের ধারণা, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা, ভাঙচুর ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। সুন্দরবনে বনদস্যু দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ডের চলমান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোনো ধরনের অপপ্রচার, ভয়ভীতি কিংবা ষড়যন্ত্র বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের দায়িত্ব পালন ও অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাহিনী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বদ্ধপরিকর থাকবে।

তিনি গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।