দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জোড়া হত্যাকাণ্ড: পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন

22

সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে স্কুলছাত্রী ফারজানা সুলতানাকে হত্যা এবং পরে অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তারকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এদিকে, বুধবার (২২ জুলাই) রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় সুমাইয়া আক্তারের মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে নিহত স্কুলছাত্রী ফারজানা সুলতানার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কায় সুমাইয়ার স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করতে সাহস না পাওয়ায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত সেটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা ছিল। পরে রাত ৯টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই দাফন সম্পন্ন হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহফুজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকালে কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা সুলতানাকে বিদ্যালয় থেকে ডেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া আক্তার। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয়। শিশুটির কানের সোনার দুল ছিনিয়ে নিতেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়রা সুমাইয়ার বাড়ির আলমারিতে ফারজানার মরদেহ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশি হেফাজত থেকে সুমাইয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে ইট দিয়ে আঘাত ও গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। এ সময় তার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

নিহত সুমাইয়ার স্বামী বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে এলাকায় ফিরতে পারেননি। তাদের তিন বছরের সন্তানকে নানির জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, দাফনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।