দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাতক্ষীরায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

29

সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ফুসলিয়ে একটি ভবনের ছাদে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিশুটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে একই এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আহসান উল্লাহকে (১৬) একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির পাশে খেলতে গেলে অভিযুক্ত কিশোর তাকে বিভিন্ন জিনিসের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে অভিযুক্ত তাকে নিচে নামিয়ে টিউবওয়েলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় শিশুটির চাচি ঘটনাটি দেখতে পান। পরে শিশুটি বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে ঘটনা জানায়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটির শরীরে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর থানায় শিশুটির মা একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছেন।

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর পরিবারের বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, গাইনি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন নার্স ও কর্মচারী তাদের সঙ্গে অসহযোগিতা করেন এবং হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। তাদের জানানো হয়, হাসপাতাল পরিচালকের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বদেশ। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, শিশুটির পরিবারকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।