দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘেরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা: পানিবন্দী হাজারো মানুষ

32

সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের শৈলকুর বিলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা মৎস্য ঘেরের কারণে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছেন শত শত পরিবারের হাজারো মানুষ। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে মাগুরা, কৈখালী, তালতলা, গোপীনাথপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রামে কৃত্রিম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালতলা ঈদগাহ মোড় থেকে কৈখালী মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়ক, মাগুরা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি থেকে দাসপাড়া পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তা এবং মাগুরা কর্মকারপাড়ার পাকা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরা-গোপীনাথপুর, বিনেরপোতা অংশ এবং বিনেরপোতা বিসিক শিল্পনগরী থেকে লাবসা মোড় পর্যন্ত বাইপাস সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে। পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচলেও ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বাবু জানান, একসময় শৈলকুর বিলের পানি স্থানীয় গেটের খাল হয়ে বেতনা নদীতে প্রবাহিত হতো। এছাড়া কুলুটিয়া ও গোপীনাথপুর খাল দিয়েও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু গত সাত থেকে আট বছরে ১৫ থেকে ১৬টি মৎস্য ঘের গড়ে ওঠায় সেই প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমের আগে ঘেরমালিকরা এক্সকাভেটর দিয়ে বাঁধ উঁচু করায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শৈলকুর বিলে খন্দকার আলী হায়দার, ইয়ার আলী, আলী হোসেন মেম্বার ও তার ছেলে জুয়েল-জুলু, রাজু, কামরুজ্জামান, তৈয়ব আলী, জিয়াদ আলী, কামাল হোসেন, ইকবাল হোসেনসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য ঘের নির্মাণ করায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত ঘেরমালিকদের একজন কামরুজ্জামান বলেন, শৈলকুর বিলের ১৫ থেকে ১৬টি ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়া হলে মাগুরা ও কৈখালী গ্রামের প্রায় চার হাজার মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।

মাগুরা গ্রামের সমাজসেবক আবিদার রহমান বলেন, কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক সালমা খাতুন বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বাড়িঘরে পানি জমে থাকে। এতে পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ, স্যানিটেশন সংকট এবং বিষাক্ত সাপ-পোকার উপদ্রব বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নারী ও শিশুরা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত বলেন, শৈলকুর বিলের পানি অপসারণে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ঘেরমালিক ও এলাকাবাসীকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সমাধান সম্ভব না হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘেরের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।