দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি পারমাণবিক চুক্তি সই, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ

22

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং পারমাণবিক জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এ চুক্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ চুক্তিটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা প্রদান করবে।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চুক্তিটি ১৯৫৪ সালের মার্কিন অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারার অধীনে সম্পাদিত হয়েছে, যা ‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত। একই সঙ্গে একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা তদারকি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, “এই চুক্তিগুলো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি উপকৃত হবে এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।”

তিনি আরও বলেন, চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ মান অনুসরণ করা হবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা কাজে লাগানো হবে।

তবে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হলে তা ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। কারণ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এটি একটি দশকব্যাপী, বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব, যা এখন অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ নয়। তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে মনে করা হলেও দেশটি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং রিয়াদের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।