দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

প্রধানমন্ত্রীর আগমন; সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে সম্ভাবনা

5

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটন শিল্প, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও মোংলা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে হেলিকপ্টারে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মোংলা বন্দরের জেটি এবং প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

নির্বাচনের পর সরকার প্রধানের প্রথম এই সফরকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন, বন্দরনির্ভর বাণিজ্য এবং শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে এ অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। এ সময় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে। পরে নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলা বন্দরে পৌঁছে নির্ধারিত সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর বন্দরের জেটি ও প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। পরিকল্পিত ও পরিবেশ বান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সুযোগ রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতের কেন্দ্র মোংলা বন্দরের অবকাঠামো ও পণ্য পরিবহন কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ বাড়বে।

এ সফরে বন্দরের জেটি পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়িত হলে শিল্প স্থাপন, পণ্য পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা এবং সহায়ক ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পর্যায়ে গেলে জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্পায়ন নিয়ে নতুন আলোচনা সামনে আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে দাকোপের নলিয়ান এলাকায় প্রস্তুতি শেষ। এখন সময় প্রধান মন্ত্রীকে স্বাগম জানানো। বিদ্যালয় মাঠসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে।

দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দাকোপের নলিয়ানে আসছেন বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)। এটা সরকারি সফর। স্থানীয় কোনো কর্মসূচি হবে না। তবুও প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে আমরা এবং প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। এখানকার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে নলিয়ান স্কুল মাঠে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে আকরাম পয়েন্টের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। তবে দাকোপে প্রধানমন্ত্রীর কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।

এদিকে আগামী ৫ নভেম্বর আবারও খুলনায় আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ওই দিন জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর।

খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল, এই তিন ক্ষেত্রকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের সম্ভাবনা দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে এসব সম্ভাবনা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সরেজমিনে পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছি আমরা। এ অঞ্চলের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে খুলনা-মোংলা অঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হবে।