দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

নেপালের চারিদিকে ধ্বংসস্তূপ, নিহত বেড়ে ১৬২

27

নেপালের চারিদিকে ধ্বংসস্তূপ। দেশটির রসুয়া জেলার ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের বিহারে। হাই এলার্টে গোটা বিহার। চলছে মাইকিং, মানুষজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। ভোতে কোশি নদী হয়ে, ত্রিসুলী ও গণ্ডক নদী ধরে বিহারে প্রবেশ করতে পারে তিব্বতের পানি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী হাই লেভেল টিম গঠন করে সব সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নদীর চারদিকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নদীর বাঁধ এবং বাঁধের চারপাশ বুধবার এবং বৃহস্পতিবার নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে রাতে নাইট পেট্রোলিং বাড়ানোর প্রতি জোর দেয়া হয়েছে।

গন্ডক নদীর পাশে থাকা পশ্চিম চম্পারন, পূর্ব চম্পারণ, মোজাফফরনগর, বৈশালী, গোপালগঞ্জ, সারণ জেলা প্লাবিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনকে হাই এলার্টে রাখা হয়েছে। রাজ্যের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

নেপাল থেকে গণ্ডক নদীতে হয়ে বিহারে প্রবেশ করবে পানি। প্রশাসনের আশঙ্কা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একসঙ্গে সাড়ে তিন লাখ কিউসেক পানি পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে নদীর পাড়ে থাকা বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বাল্মিকী নগরে গণ্ডক নদীর ব্যারেজের সুরক্ষা অনেক অংশেই বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিহার এবং উত্তর প্রদেশের ইঞ্জিনিয়াররা ক্রমাগত ব্যারেজের সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ করছে। একইসঙ্গে বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে বাল্মিকী নগরের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ এলাকায় পশুদের সরিয়ে নেয়ার কাজও শুরু হয়েছে।

বিহার সরকার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকেই পানি বিহারের গণ্ডক নদীতে প্রবেশ করে। পানির তীব্র চাপ সামলাতে উত্তর বিহারের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক এক হিমধসের ধাক্কায় নেপালে নেমে এসেছে ভয়াবহ জলউচ্ছ্বাস। উজান থেকে ধেয়ে আসা এই অস্বাভাবিক প্লাবনে নেপালের তিনটি জেলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সূত্র: বিবিসি/রয়টার্স