দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

নাভারণ-গোড়পাড়া সড়কের দুটি ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

20

শার্শা :

যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ-গোড়পাড়া সড়কের দুটি ব্রিজের নির্মাণকাজ দীর্ঘ চার বছর ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কর্মজীবী মানুষ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নাভারণ বাজার থেকে গোড়পাড়া পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভারী যানবাহনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নাভারণ বাজার থেকে গোড়পাড়া সড়কের কাজীরবের নদী ও গাতিপাড়া বেতনা নদীর ওপর দুটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি প্রায় ১২ কোটি ২৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয়ে ব্রিজ দুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড। এ পর্যন্ত ব্রিজ দুটির প্রায় ৭০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্রিজ দুটি ব্যবহার করতে না পারায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ সড়কের পাশে বিখ্যাত মুখিকচুর বাসাবাড়িয়া বাজার রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে এসে মুখিকচু কিনে নিয়ে যান। ব্রিজ দুটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিক্রিতে তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও দ্রুত চিকিৎসাসেবা, ডাক্তার বা অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজ দুটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, “নাভারণ-গোড়পাড়া সড়কের কাজীরবের নদী ও গাতিপাড়া বেতনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন দুটি ব্রিজের কাজ মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ব্রিজ দুটির নির্মাণব্যয় প্রায় ১২ কোটি ২৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা।”

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিজাইন সেক্টরের কর্মকর্তারাও সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর দ্রুতই ব্রিজ দুটির নির্মাণকাজ পুনরায় চালু করা হবে।”

দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে ব্রিজ দুটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।