দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে সংকট, ঝুঁকিতে দেশের পৌনে ২ কোটি মানুষ

22

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলের জনজীবন, কৃষি ও অর্থনীতি। উচ্চমাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ পরিবেশগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্টে’ বাংলাদেশের জন্য এমন উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চমাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ মানুষের উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। এতে বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দেশের জিডিপির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে ভূমি দেবে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় বদ্বীপ ক্রমেই বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বদ্বীপের কিছু অংশ বছরে ৪ থেকে ৫৫ মিলিমিটার পর্যন্ত দেবে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন-জীবিকাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু বসতভিটা ও কৃষিজমিতে সীমাবদ্ধ নেই, পড়ছে উপকূলীয় মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও। নিরাপদ পানি, জীবিকা ও বসবাসের অনিশ্চয়তায় উপকূলের একাংশের মানুষ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি, ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় জনজীবন এবং পরিবেশের ভারসাম্য।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অধিক লবণাক্ততা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে ওই অঞ্চলের নারী ও কিশোরীরা উপকূল ছেড়ে ঢাকা কিংবা অন্য শহরাঞ্চলে চলে যাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ এই অভিবাসনের ফলে যেসব এলাকায় তারা আশ্রয় নিচ্ছেন, সেখানেও নতুন করে পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনে কার্যকর পরিকল্পনা। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এ জন্য জলবায়ু সহনশীল উপাদান ও বীজ ব্যবহার করতে হবে এবং উপকূলীয় এলাকার অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় কোথায় এবং কীভাবে আশ্রয় নেয়া যাবে, সে বিষয়ে প্রস্তুতি থাকতে হবে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিজেদের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর শুধু পরিবেশগত সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বাড়িয়ে তুলছে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি। ফলে উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকর অভিযোজন উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।