দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরির বিষয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

22

শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের চাকরি যাবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

এহছানুল হক মিলন বলেন, গত এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছিল। এতে নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এবারও ফল পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। কোনো পরীক্ষার্থী যেন অবমূল্যায়িত না হন, তা বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতে কাজ করা হবে। এবারের ফল সন্তোষজনক হয়নি।

এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দিনে ফল ভালো করার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের পুনরায় পরীক্ষা কত দিনের মধ্যে নেয়া যায়, তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এবার পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এবার ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তাদের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে ভাবছে সরকার। প্রয়োজনে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাশের ভালো ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

 

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বরাবরের মতো পাসের হারে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। তবে জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছেন ছাত্ররা। এবার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

 

এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন, পাসের হার ৫৬.৩১ শতাংশ। আর ছাত্রদের মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন, পাসের হার ৪৭.৭৫ শতাংশ।

 

এছাড়া এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ ছাত্রী।

 

তবে এবার পাসের হার গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।‎ চলতি বছর গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ শিক্ষার্থী। সে হিসেবে এবার পাসের হার কমেছে ৬.৭১ শতাংশ আর জিপিএ-৫ কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

 

চলতি বছর ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। গত বছর এ সংখ্যা ছিলো ২০২। শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।

 

‎এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।