খুলনা :
খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের বিভিন্ন সড়ক, খালপাড় ও জনসমাগমস্থলে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকছে। নির্ধারিত ভাগাড় বা আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকায় শহরের প্রবেশপথসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত চালনা পৌরসভা ২০১৩ সালে ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। প্রায় ৯ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় ২০২০ সালে ১০টি ডাস্টবিন নির্মাণ করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশই বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় মাত্র চারজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভায় পর্যাপ্ত ও কার্যকর ডাস্টবিন না থাকায় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে, ড্রেন, খাল, নদী, পুকুর ও ডোবায় ময়লা ফেলছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন নিয়মিত আবর্জনা অপসারণ না করায় দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।
পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত চালনা খাল পুনঃখনন করা হলেও খালের দুই পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে এর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে পাড়ের মাটি ধুয়ে যাওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চালনা বাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে, বৌমার গাছতলা, উপজেলা খাদ্যগুদামের সামনে, নলোপাড়া সড়ক, চালনা বাজার মোড়, শহীদ মিনার সড়ক, সরকারি কোয়ার্টার এলাকা, আছাঁভূয়া মোড়, চালনা এমএম কলেজ, মোহাম্মাদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, পশুর হাট সড়কসহ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পড়ে রয়েছে। এসব স্থান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পথচারীদের অনেক সময় নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
শহীদ মিনার এলাকার বাসিন্দা সৈয়েদ কামরুজ্জামান বলেন, “চালনা বাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের ড্রেনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তূপ পড়ে আছে। সব সময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়মিত পরিষ্কার করতে দেখা যায় না।”
এ বিষয়ে চালনা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, “পৌরসভায় এখনো পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নিজস্ব ভাগাড় নেই। তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই জমি অধিগ্রহণ করে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ডাস্টবিন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে জায়গা না পাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হয়েছে। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে।”