দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

খুলনায় বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

44

 খুলনা:

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপাড়ায় মো. শাহাবুদ্দিন মাতুব্বরের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত আগস্ট মাসে একদল ব্যক্তি তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ অর্থ, মূল্যবান মালামাল, জমির দলিল, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও শিশুদের পড়াশোনার বই নিয়ে যায়। এছাড়া গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ গৃহপালিত পশুপাখিও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগী মো. শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, তাহলে তার বিচার আইন করবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আমার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করার অধিকার নেই। বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

তার ছেলে বলেন, “আমাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঘর নেই। যারা আমাদের বাড়ি ভেঙে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

ভুক্তভোগীর স্ত্রী জয়নাব বেগম বলেন, “আমার পরিবারের সর্বনাশ করে দেওয়া হয়েছে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় এক শ্রমিক নেতা দাবি করেন, শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর অতীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে শুনেছেন। তবে বর্তমানে তিনি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না, তা নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, “কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিচার আইনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ভাঙচুর বা লুটপাট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

এলাকার একজন বাসিন্দাও জানান, কয়েক দিন আগে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করা উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা হামলা-ভাঙচুরের মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মামন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবগত রয়েছেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।