দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কেশবপুরে সরকারি বাওড় থেকে মাছ লুটের অভিযোগ

21

কেশবপুর :

যশোরের কেশবপুরে সরকারি মির্জানগর বাওড় থেকে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা ও একাধিক মামলার আসামি মুজিবার রহমান মুজের বিরুদ্ধে। বাওড়টি ইজারা নেওয়া বেগমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, নিয়মিত মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। এতে সমিতির ১০১ জন সদস্য আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন বলে দাবি তাদের।

এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মির্জানগর বাওড়ের পাড়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বেগমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য শেখ আব্দুস সাত্তার। তিনি অভিযোগ করেন, চলতি ২০২৬ সাল থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য প্রতি বছর দুই লাখ টাকা ইজারা মূল্যে বাওড়টি সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছে বেগমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। চলতি বছর বাওড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাছ ছাড়া হয়েছে। কিন্তু ইজারা নেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় একটি পক্ষ জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

শেখ আব্দুস সাত্তার আরও দাবি করেন, সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের খবর পেয়েও মুজিবার রহমান মুজের লোকজন বাওড় থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে সমিতির ১০১ জন সদস্যের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মির্জানগর মৌজায় অবস্থিত বাওড়টি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে বিভিন্ন সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাওড়ের মালিকানা নিয়ে অতীতে একাধিক মামলা ও বিরোধ সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারের মালিকানা বহাল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শেখ আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করেন, বাওড়ের সরকারি মালিকানা ও ইজারা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। এমনকি তার ছোট ভাই শেখ আব্দুল্লাহ বাবুকে ২০১২ সালে হত্যা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ভূমি প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারি রেকর্ডে বাওড়টির মালিকানা সরকারের নামে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজসহ সমিতির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাওড় থেকে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে বাওড় থেকে মাছ ধরার অভিযোগের বিষয়ে মুজিবার রহমান মুজের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণ করেন। তার বক্তব্য প্রতিবেদকের কাছে পাওয়া যায়নি।

মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের দাবি, সরকারি বাওড় ইজারা নিয়ে তারা মাছ চাষে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু ইজারাকৃত বাওড় থেকে মাছ ধরে নিয়ে গেলে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এ অবস্থায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও সরকারি জলমহালের ইজারা, মাছ আহরণ এবং মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।